রুকইয়াহ কি?
জিন-যাদুটোনা, ব্লাক ম্যাজিক ও নজরের অনিষ্ট থেকে বাচতে অনেকেই তাবীজ, কবজ, তান্ত্রিক এবং যাদুকরদের সরানো পন্য হন। এসব করেও অধিকাংশ সময় সফলতা তো পান না, বরং শিরকের মতো পাপ কাজ করে ফেলেন। এসব প্যারানরমাল সমস্যার জন্য রুকইয়াহ ই হলো সবচাইতে নিরাপদ চিকিৎসা।
রুকইয়াহ কি? [বিস্তারিত]
নববী চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হচ্ছে রুকইয়াহ তুশ শরইয়্যাহ। এই চিকিৎসার মুল উৎস হচ্ছে কুরআনের আয়াত এবং হাদীসে বর্ণিত দোয়া। এর পাশাপাশি জায়েজ বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে জিন-যাদুটোনা, জিনের আসর, বদনজর, ব্লাক ম্যাজিক সহ শারীরিক এবং মানসিক যেই কোন সমস্যা থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় মুক্তি পাওয়া যায়।
✅ আল্লাহ বলেন:
"আর আমি কুরআন নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য এবং রহমত, কিন্তু তা জালেমদের ক্ষতিই বাড়িয়ে দেয়।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮২)
✅ হাদীস:
রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, “রুকইয়াহতে যদি শিরক না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৫৪৪)
🌳 যেই বিশ্বাস রাখতে হবে
⭕ রোগীকে সুস্থ করার ব্যাপারে রাক্বির কোনো ক্ষমতা নেই; বরং শিফা বা সুস্থতা কেবলমাত্র আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে—এমন পরিশুদ্ধ বিশ্বাস রাখা।
⭕ এর বাহিরে এমন যে কোনো পদ্ধতি রুকইয়াহ শরইয়্যাহ হিসেবে বিবেচিত হবে না যা শরীয়াহ অনুমোদন দেয় না। যেমন: হাজিরা দেখা, জিনের সাহায্য নেওয়া, নির্দিষ্ট কোন দিনে চিকিৎসা করা ইত্যাদি।
➤ রুকইয়াহর ক্ষেত্রঃ
আমাদের দৈনন্দিন সমস্যা বা রোগব্যাধিগুলোকে মূলত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায় —
- ✅ শারীরিক সমস্যা
- ✅ মানসিক সমস্যা
- ✅ ঈমান ও ইবাদাত কেন্দ্রীক সমস্যা (নামাজে অনীহা, ওাসওয়াসা ইত্যাদি)
- ✅ রিজিক বা হাজত সংক্রান্ত সমস্যা (বিয়ে বন্ধ, ব্যবসায় ক্ষতি)
- ✅ আসক্তি (ড্রাগ বা পাপাচার)
⭕ রুকইয়াহর ব্যবহারিক কনসেপ্ট অনুযায়ী মূল কারণ চারটি:
- ✅ আঈন (বদনজর)
- ✅ হাসাদ (হিংসা)
- ✅ জ্বিন শাইত্বনের আছর
- ✅ সিহর বা যাদু
রুকইয়াহর মূল কাজ হলো, আক্রান্ত ব্যক্তির সমস্যার পেছনে আঈন, হাসাদ, জ্বিন বা সিহরের প্রভাব নির্ণয় করে সঠিক পদ্ধতিতে তা নষ্ট করা।
🌳 পূর্বশর্তঃ
রুকইয়াহ করে উপকার পেতে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন:
- নিয়ত: কেন রুকইয়াহ করছেন, তা নির্দিষ্ট করা।
- ইয়াক্বিন: বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহর কুরআনে শিফা আছে।
- মেহনত: সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রুকইয়াহ চালিয়ে যাওয়া।
সুস্থ হতে কত সময় লাগবে?
এটি অন্যান্য রোগের মতোই একটি রোগ। কারো একবারেই সারে, কারো সময় লাগে। সদিচ্ছা ও ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছায় মুক্তি পাওয়া যায়।
সতর্কতা:
অসাধ্য সাধন, জাদুকরী কিছু করা বা হারাম সম্পর্কের জন্য রুকইয়াহ ব্যবহার করা যায় না।
